লক্ষ্মীর ভান্ডার ক্লাব: মাসে ১০০০-১২০০ টাকা দিয়ে নতুন স্বাবলম্বিতার পথ।

**লক্ষ্মীর ভান্ডার ক্লাব: গ্রাম বাংলার মহিলাদের উন্নতির নতুন দিগন্ত**

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্যতম জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের মধ্যে একটি হচ্ছে *লক্ষ্মীর ভান্ডার* প্রকল্প। এবার এই প্রকল্পকে আরও শক্তিশালী করতে একটি অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে চাঁদরা ব্লকের সনকাডাঙ্গা গ্রামের মহিলারা। তারা একত্রিত হয়ে গঠন করেছেন একটি বিশেষ ক্লাব—**লক্ষ্মীর ভান্ডার ক্লাব**।

### লক্ষ্মীর ভান্ডার ক্লাবের উদ্ভাবনী উদ্যোগ

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই প্রকল্প মূলত গ্রামের মহিলাদের আর্থিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে চালু হয়। সনকাডাঙ্গার ৬০-৭০টি পরিবার থেকে মহিলারা একত্রিত হয়ে গঠন করেছেন এই ক্লাব। এই ক্লাবের মাধ্যমে তারা তাদের গ্রামের উন্নতি, সামাজিক সমস্যাগুলির সমাধান এবং মহিলাদের ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করছেন।

### ক্লাবের মূল উদ্দেশ্য

১. **বাল্যবিবাহ রোধ** – গ্রামের মধ্যে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন।
২. **স্বাবলম্বী অর্থনৈতিক উন্নয়ন** – মহিলাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা।
৩. **গ্রামীণ উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ** – গ্রামের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে সক্রিয় অংশগ্রহণ।

### পুরুষদের সহায়তা

এমনকি এই উদ্যোগে পুরুষেরা মহিলাদের সমর্থন করছে। তারা জানিয়েছে, এই ক্লাবের সদস্যরা পুরুষদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার সমাধানে এবং উন্নয়নমূলক কাজকর্মে অংশ নেবে।

### লক্ষ্মীর ভান্ডার ক্লাবের লক্ষ্য

**১. বৃহত্তর সমাজকল্যাণ** – ক্লাবের মাধ্যমে সমাজে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে সহায়তা করা।
**২. অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা** – মহিলারা নিজেদের অর্থনৈতিক দিক থেকে আরও স্বাধীন হবে।
**৩. শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি** – এই ক্লাবের মাধ্যমে শিক্ষার প্রসার এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয়েও প্রচেষ্টা বাড়ানো হবে।
**৪. কর্মসংস্থানের সুযোগ** – গ্রামের মহিলাদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

### রীতা দাসের মতামত

ক্লাবের সদস্য রীতা দাস জানিয়েছেন, “আমরা চাই আমাদের গ্রাম আরও উন্নত হোক। শুধু ঘরের কাজ নয়, এখন থেকে আমরা গ্রামের উন্নয়নেও অংশ নেব।” তাদের এই উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামটির সার্বিক উন্নয়ন হতে চলেছে।

### ভবিষ্যৎ দিক

সনকাডাঙ্গার মহিলাদের এই উদ্যোগ দেখে পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য জেলার মহিলারাও হয়তো নিজেদের গ্রামে *লক্ষ্মীর ভান্ডার ক্লাব* গঠনের জন্য উদ্যোগী হবেন। এই ক্লাব গঠন শুধু মহিলাদের স্বাবলম্বী করে তুলবে না, বরং সমাজের প্রতিটি স্তরে উন্নয়ন ও সচেতনতা বৃদ্ধির দিকে সাহায্য করবে।

এটি এক নতুন দিগন্তের সূচনা, যেখানে মহিলারা সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবেন।

Leave a Comment